৪০তম বিসিএসের প্রস্তুতির সময় এখনই!

0
17
article_top
hot_bd_news

আর কিছু দিনের মধ্যেই ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা । এখন সময় নিয়মিত পড়াশোনা করা । কেননা এবার বিসিএসে চার লাখের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছেন, যা পিএসসির ইতিহাসে রেকর্ড। এবারের বিসিএসের প্রস্তুতি কেমন হবে তা জানতে চাওয়া হয় তকী ফয়সালের কাছে। তকী ফয়সাল ৩৭তম বিসিএসে প্রশাসনে প্রথম স্থান অধিকারী। এবারের বিষয় বাংলা ও ইংরেজি।

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার প্রথম ধাপ প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। প্রস্তুতির শুরুতেই সিলেবাসের বিষয়াবলি অনুযায়ী বিগত বিসিএস পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে নিজের দক্ষতা ও দুর্বলতার দিকগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এরপর নিজস্ব কৌশল অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে। কঠোর অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে যেকোনো বিষয়েই দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। কোনো বিষয়ে দুর্বলতা থাকলে সে বিষয়ে বিশেষ জোর দিতে হবে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে; কোনো পরিস্থিতিতেই হতাশ হলে চলবে না। তাহলে সাফল্য আসবেই।

article_inline

বাংলা 
বিষয়ভিত্তিক প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে পূর্ণমান ৩৫। সাহিত্যে ২০ এবং ভাষা তথা ব্যাকরণ অংশে ১৫ নম্বর । সাহিত্য অংশের ২০ নম্বরের মধ্যে ০৫ নম্বর প্রাচীন ও মধ্যযুগ এবং ১৫ নম্বর আধুনিক যুগের সাহিত্য থেকে আসে। এ অংশের প্রস্তুতির জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসবিষয়ক কোনো বই পড়তে পারলে ভালো হয়। তবে সময়স্বল্পতা ও মনে রাখার ক্ষেত্রে তা অনেকের জন্যই দুষ্কর। তাই বাজারের যেকোনো গাইড বই থেকে এ অংশ ভালোভাবে মুখস্থ করতে হবে। আর কিছুদিন পর পর রিভিশন করতে হবে; কারণ এ অংশ পড়ার চেয়ে ভোলা বেশি সহজ। সঙ্গে নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে কবি-সাহিত্যিকদের সাহিত্য কর্মগুলোর নাম পড়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে যেসব কবি-সাহিত্যিকদের ওপর সচরাচর বেশি প্রশ্ন আসে (যেমন- কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর,  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, জসীমউদদীন, বেগম রোকেয়া, দীনবন্ধু মিত্র,  কায়কোবাদ প্রমুখ), তাঁদের সাহিত্যকর্মের ব্যাপারে বিশেষ জোর দিতে হবে। ব্যাকরণ অংশের সিলেবাসে প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি, পরিভাষা, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ,  বর্ণ, শব্দ, ধ্বনি, পদ, প্রত্যয়, বাক্য, সন্ধি ও সমাস অন্তর্ভুক্ত আছে। এগুলোর জন্য নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বোর্ড বই থেকে বিষয় ধরে ভালোভাবে পড়তে হবে। বানান ও বাক্য শুদ্ধি, বাক্য পরিবর্তন, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ,  শব্দ গঠন—এ টপিকস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসেও অন্তর্ভুক্ত। তাই এগুলো উচ্চ মাধ্যমিকের কোনো ব্যাকরণ বই থেকে পড়তে পারলে আরও ভালো।

ইংরেজি
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের ৩৫ নম্বরের মধ্যে সাহিত্যে ১৫ এবং ভাষা তথা গ্রামার অংশে ২০ নম্বর বণ্টিত আছে। যেসব বিষয় থেকে বেশি প্রশ্ন হয়, যেমন- শেকসপিয়ার, রোমান্টিক যুগের কবি, বিভিন্ন যুগের বিস্তারকাল ও সাহিত্যগত বৈশিষ্ট্য, ইংরেজি সাহিত্যের ছন্দ ও অলংকার, বিভিন্ন বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের পঙ্ক্তি ও উদ্ধৃতি প্রভৃতি খুব গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে এবং বারবার রিভাইজ করতে হবে। গ্রামারের জন্য পার্টস অব স্পিচ, ক্লসেস, ইডিয়মস অ্যান্ড ফ্রেজ, সেন্টেন্স অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন্স—সিলেবাসের এ অংশগুলো রুলস বুঝে বুঝে প্র্যাকটিস করতে হবে। কারেকশন ও ভোকাবুলারির জন্য কোনো গাইড বই; সঙ্গে পত্রিকা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিবন্ধ পড়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটা ব্যক্তিগত ডায়েরিতে নিয়মিত অজানা ওয়ার্ড নোট করা যেতে পারে। ইংরেজি অংশে ভালো করতে বেশি বেশি অনুশীলনের বিকল্প নেই। কোনো একটি গাইড বই থেকে সিলেবাস অনুযায়ী বিগত বিসিএসের প্রশ্ন, পিএসসির নন-ক্যাডারের প্রশ্ন, বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি চাকরির প্রশ্ন অবশ্যই বুঝে বুঝে সমাধান করতে হবে। আর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ইংরেজি অংশের উত্তর করতে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। কেননা এগুলোতে কনফিউশনে পড়ে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়, আর নেগেটিভ মার্কস গুনতে হয়।

আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকুন আর নির্ভর হয়ে পরীক্ষার হলে উত্তর করুন। বিশ্বাস রাখুন; ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।

 

article_bottom

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here